বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

বাংলাদেশের তরুন উদ্ভাবক সনেটের বিস্ময়কর আবিস্কার – “ইলেক্ট্রিক সিকিউরিটি গার্ড”

প্রযুক্তির দৌড়ে বাংলাদেশের তরূনরা কতটা এগিয়ে? বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষমতা তাদের আছে তো ? এসব প্রশ্নের উত্তরে মাথা উচু করে নিজেদের প্রমান করার চেষ্টায় যারা ক্রমাগত সফলতা অর্জন করছেন তাদের একজন  তরুন উদ্ভাবক মোরশেদুল ইসলাম সনেট। প্রযুক্তিকে যেন হাতের মুঠোয় তার, সেই সাথে বিশ্বকে জানিয়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা। সেই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতেই আবার উদ্ভাবন করলেন অবাক করা এক ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস, যার নাম তিনি দিয়েছেন ইলেক্ট্রিক সিকিউরিটি গার্ড। নাম শুনে যত টা না অবাক হয়েছেন কার্যকারিতায় হয়তো আরো বেশি অবাক হবেন। প্রযুক্তিটির সবচেয়ে বড় সুবিধাটি হল, কেউ আপনার দোকান বা ঘরে প্রবেশ করলেই অটোমেটিক আপনার মোবাইলে চলে আসবে কল, জলে উঠবে আপনার ঘরের লাইট আর সজোরে বাজতে থাকবে এলার্ম।


সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার চাঁদ-মেটুয়ানী গ্রামের সরকার বাড়ির ছেলে সনেট । ছোট বেলা থেকেই নতুন কিছু করার নেশা সনেটকে সবসময় তারিয়ে বেরাত। এস. এস. সি. তে এ. এম. বদরূজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে কৃতিত্বের সাথে জিপিএ ৫ অর্জনের পর বি.এ.এফ শাহীন কলেজ থেকে এইচ.এস.সি সম্পন্ন করেন তিনি এবং বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক করছেন।
এটাই তার প্রথম আবিস্কার নয়, ২০১০ সালে মাত্র ১৫বছর বয়সে গাড়ি চুরি রোধক উদ্ভাবন করে সবার নজরে আসেন তিনি, এর পর ২০১২ তে তার আবিষ্কৃত অটো মোবাইল সুইচিং সিস্টেম সারা দেশে ব্যাপক পরিচিত হয়।
এই অটো মোবাইল সুইচ এর মাধ্যমে যেকোন ব্যাক্তি তার ব্যবহৃত যেকোন সাধারন মোবাইলফোন এর সাহায্যে যেকোন জায়গা বা দুরত্ব থেকে একটি ইলেক্টিক সুইচ চালু ও বন্ধ করতে পারবেন কোন খরচ ছাড়া। যেটা বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পে ব্যবহার করা যায়। 
বর্তমানে ইলেক্ট্রিক সিকিউরিটি গার্ড নিয়ে এসেছেন তিনি।
ডিভাইসটি আপনার ঘরে এক্টিভ করা থাকলে যদি কেউ আপনার ঘরে প্রবেশ করে তাহলে তাতক্ষনিক ডিভাইসটি সাথে সংযুক্ত বাল্বটি জ্বলে উঠবে এবং জোরে জোরে সাইরেন বাজতে থাকবে এবং ৫ সেকেন্ডের মধ্যে আপনার মোবাইলে কল চলে আসবে । ডিভাইসটি কারেন্ট চলে গেলেও চালু থাকবে এবং এটা বন্ধ বা চালু করার জন্য কোন সুইচ নেই, বন্ধ বা চালু করার জন্য যে নাম্বার থেকে আপনার মোবাইলে কল আসবে সেই নাম্বারে মিসড কল করতে হবে ।ডিভাইস্টি তৈরিতে খরচ লাগে ১৫০০টাকা যা সবার সাধ্যের মধ্যে।সনেট আরো জানান ঘরে আগুন লাগলেও যন্ত্রটি এক্টিভ হয়ে যাবে।
বর্তমানে যন্ত্রটির বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে উৎপাদন সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশের বেশ কিছু তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কিত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এর উৎপাদন খরচ অথবা বাণিজ্যিক ভাবে একে বাজারজাত করন এর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সনেট নিজেকে প্রতিষ্ঠিত একজন বিজ্ঞানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চান। এই কারনে উনি এই প্রযুক্তি নিয়ে আরও এগিয়ে যেতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা কামনা করছে এই উদ্ভাবক।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন